বাবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা: বাবা বা আব্বুকে যে কথা মুখে বলা হয় না
একটা ছবি বাছুন, বাবা, আব্বু বা যে নামে ডাকেন সেটা লিখুন, তারপর লিংকটা পাঠিয়ে দিন। কার্ড ফ্রি, সাইন-আপ লাগে না, আর ভেতরের চিঠিটা এতটাই ছোট যে বাবা পুরোটা পড়বেন।

বাবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা
এই পেজের প্রত্যেক কার্ডে একই লেখা যায়। শুধু নাম বদলায়, তাই সাইন-আপ করতে হয় না, আর আমাদেরও কিছু সেভ করে রাখতে হয় না।

প্রিয় তাঁর নাম,
সামনাসামনি এসব বলতে গেলে আমরা দুজনেই অন্যদিকে তাকাব, তাই লিখেই দিলাম।
অনেক কিছু শিখেছি তোমাকে দেখে, উপদেশ শুনে নয়। ঝামেলা হলে সবাইকে না জড়িয়ে কীভাবে সামলাতে হয়। কথা দিলে কীভাবে ঠিক সময়ে হাজির থাকতে হয়। বাজারে মাছের কানকো উল্টে কীভাবে দেখতে হয়, সেটাও।
আজকাল খেয়াল করি, তোমার মতো করেই কথা বলি, তোমার মতোই কোনো কিছুতে হাত দেওয়ার আগে এক পা পিছিয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। আগে এতে একটু ভয় লাগত। এখন বেশিরভাগ সময় ভালোই লাগে।
তাই, ধন্যবাদ। ধৈর্যের জন্য, আর সেই উপদেশগুলোর জন্য, যেগুলো তখন কানে তুলিনি, পরে চুপচাপ মেনে চলেছি।
আজ একটু বিশ্রাম নাও। একটা দিন অন্য কেউ সব সামলাক।
শুভ জন্মদিন। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো।
বাবা, আব্বু না বাপি: কার্ডে কী লিখবেন
চিঠি শুরু হয় “প্রিয়” দিয়ে, তারপর আপনার টাইপ করা শব্দ। যা রোজ ডাকেন তা-ই লিখুন: বাবা, আব্বু, আব্বা, বাপি বা আব্বাজান। চিঠির ভেতরে আর কোথাও ডাকনাম নেই, তাই যেকোনো শব্দই ঠিকঠাক বসে যায়। বাংলা অক্ষরে বা ইংরেজিতে Abbu, যেভাবে খুশি লিখতে পারেন।
শ্বশুরমশাই, সৎবাবা বা যিনি বাবার মতো বড় করেছেন, তাঁদেরও পাঠাতে পারেন। চিঠিতে জন্মের কথা নেই, আছে দেখে দেখে শেখার কথা, তাই বাবার জায়গায় থাকা যেকোনো মানুষের বেলায় খাটে।
চিঠিতে কী আছে
বাবার চিঠিতে তিনটে জিনিস আছে। প্রথমে একটা স্বীকারোক্তি যে সামনাসামনি এসব বলা কঠিন। তারপর বাবাকে দেখে দেখে শেখা কয়েকটা ছোট জিনিস, ঝামেলা সামলানো থেকে বাজারে মাছ চেনা পর্যন্ত। শেষে একটা সোজা ধন্যবাদ আর একদিনের বিশ্রামের অনুরোধ।
কোনো কবিতা, ধর্মীয় লাইন বা বয়সের উল্লেখ নেই। বাবা অবসরপ্রাপ্ত হোন বা এখনো রোজ অফিস করুন, গ্রামে থাকুন বা শহরে, চিঠিটা একইভাবে পড়া যায়। যে কথাটা শুধু আপনাদের দুজনের, সেটা নিজের মেসেজে লিখুন।
বাবারা কার্ড নিয়ে কিছু বলেন না, কিন্তু পড়েন
অনেক বাবা কার্ড পেয়ে শুধু লেখেন “ধন্যবাদ” বা একটা থাম্বস-আপ পাঠান। এতে হতাশ হবেন না। বেশিরভাগ বাবা আবেগের কথায় উত্তর দিতে জানেন না, কিন্তু রাতে একা বসে আবার খুলে পড়েন, কখনো মাকে ডেকে দেখান। চিঠিটা ইচ্ছে করেই ছোট আর সোজাসাপ্টা রাখা হয়েছে, যাতে অস্বস্তি না লাগে।
লিংকের সঙ্গে নিজের একটা লাইন যোগ করলে কার্ড আরও কাজে লাগে। বাবার শেখানো কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের কথা লিখুন: সাইকেল চালানো, ব্যাংকের ফর্ম পূরণ, দরদাম করা, বা ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে খেলার নিয়ম বোঝানো। একটা নির্দিষ্ট স্মৃতি দশটা বিশেষণের চেয়ে বেশি বলে।
কখন পাঠাবেন
বেশিরভাগ বাবা ভোরে ওঠেন, চা আর খবরের কাগজ নিয়ে বসেন। সেই সময় ফোনে কার্ড পৌঁছালে সবচেয়ে ভালো। রাত ১২টার উইশ বাবাদের কাছে তেমন জরুরি নয়, অনেকে তখন ঘুমিয়ে থাকেন আর সকালে উঠে মেসেজের ভিড়ে আপনারটা হারিয়ে যায়।
প্রবাসে থাকলে বাড়ির সময় হিসাব করে পাঠান, আর দিনে একবার ফোনও করুন। কার্ড গুছিয়ে কথা বলে, ফোনে বাবা আপনার গলা শোনেন, দুটো মিলেই দিনটা পূর্ণ হয়।
বাবার জন্মদিন যদি অফিসের দিনে পড়ে, বেরোনোর আগেই পাঠান। অফিসে পৌঁছে সহকর্মীদের শুভেচ্ছার মাঝে আপনার কার্ডটা আগে খোলা থাকলে বাবা হয়তো কাউকে দেখিয়েও ফেলবেন, যদিও আপনাকে কখনো বলবেন না।
বাবার জন্মদিনে কী উপহার দেওয়া যায়
বাবারা নিজের জন্য খুব কম কিছু কেনেন, আর জিজ্ঞেস করলে বলেন কিছুই লাগবে না। কয়েকটা ভাবনা, যেগুলো সত্যিই কাজে লাগে:
- একটা ভালো পাঞ্জাবি বা আরামদায়ক স্যান্ডেল, পুরোনোটা যতই প্রিয় হোক।
- ফোনে বড় অক্ষর, ভিডিও কল বা অনলাইনে বিল দেওয়ার নিয়ম, একবার বসে ধীরে ধীরে শিখিয়ে দেওয়া।
- পছন্দের দোকানের মিষ্টি বা পছন্দের মাছ, বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া।
- পুরোনো সাদাকালো ছবি স্ক্যান করে বাঁধিয়ে দেওয়া।
- একটা বিকেল শুধু বাবার সঙ্গে, তাঁর পছন্দের জায়গায়।
অচেনা লিংক নিয়ে বাবার সন্দেহ
অনেক বাবা ফোনে অচেনা লিংক খোলেন না, আর সেটা ভালো অভ্যাস। কার্ডে পাঠানো মানুষের নাম লেখা থাকে না, তাই আগে একটা মেসেজ দিন যে আপনি একটা জন্মদিনের কার্ড পাঠাচ্ছেন। লিংক ফোনের ব্রাউজারে খোলে, কোনো অ্যাপ নামাতে হয় না, কোনো তথ্য চায় না। চশমা ছাড়া পড়তে কষ্ট হলে কার্ডটা আঙুল দিয়ে বড় করে নেওয়া যায়।
বাবা যদি Messenger বা imo বেশি ব্যবহার করেন, লিংকটা সেখানেই পাঠান। যে অ্যাপে বাবা রোজ আপনার মেসেজ পড়েন, সেখানে এলে খুলতে দ্বিধা কম হয়।
লোকে যা জানতে চান
বাবার জন্মদিনে কী লিখব?
বাবার কাছ থেকে শেখা একটা নির্দিষ্ট জিনিসের কথা লিখুন, আর একটা সোজা ধন্যবাদ দিন। লম্বা আবেগের লেখা অনেক বাবাকে অস্বস্তিতে ফেলে। কার্ডের চিঠি মূল কথাটা বলে দেয়, আপনার মেসেজে শুধু একটা স্মৃতি জুড়ে দিন।
বাবাকে আমরা আপনি বলি। চিঠি তুমি-তে কেন?
বাংলাদেশের অনেক পরিবারে আব্বা-আম্মাকে আপনি বলার চল আছে, আবার বেশিরভাগ শহুরে পরিবারে আর পশ্চিমবঙ্গে তুমি। একটা চিঠিকে সবার জন্য চলতে হয়, তাই তুমি রাখা হয়েছে। লিংকের সঙ্গের মেসেজটা আপনার বাড়ির রীতিতে লিখুন।
আব্বুর জন্মদিনে দোয়া বা ইসলামিক শুভেচ্ছা কীভাবে দেব?
কার্ডের চিঠি ধর্মনিরপেক্ষ রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিবারে পাঠানো যায়। দোয়া জানাতে চাইলে লিংকের আগে বা পরে নিজের মেসেজে লিখুন, যেমন আব্বুর সুস্থতা আর হায়াতের জন্য। কার্ড আর আপনার দোয়া একসঙ্গে পৌঁছাবে।
বাবার জন্মদিনে কী উপহার দেওয়া যায়?
এমন কিছু যা বাবা নিজে কিনবেন না কিন্তু রোজ ব্যবহার করবেন: পাঞ্জাবি, ভালো ছাতা, আরামের স্যান্ডেল বা নতুন চশমা। অনেক বাবার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার হলো আপনার সময়, একসঙ্গে বাজারে যাওয়া বা পুরোনো কোনো বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া।
বাবা আবেগের কথা একদম পছন্দ করেন না। তবু পাঠাব?
হ্যাঁ। চিঠিটা ঠিক এমন বাবাদের কথা ভেবেই লেখা: ছোট, কোনো নাটক নেই, ধন্যবাদটা একবার বলে থেমে যায়। শেষে বিশ্রাম নেওয়ার কথা আছে, ভালোবাসার বড় ঘোষণা নেই।
শ্বশুর বা সৎবাবাকে এই কার্ড পাঠানো যায়?
যায়। চিঠি দেখে দেখে শেখা আর ধৈর্যের কথা বলে, যা বাবার মতো যেকোনো মানুষের বেলায় সত্যি। শ্বশুরকে আপনি বলে ডাকলে মেসেজে একটু আনুষ্ঠানিক ভাষায় নিজের কথা যোগ করুন।
চিঠিটা কি ছেলে আর মেয়ে দুজনের পাঠানোর মতো?
হ্যাঁ। বাংলায় ক্রিয়াপদ লিঙ্গ অনুযায়ী বদলায় না, আর চিঠিতে পাঠানো মানুষের পরিচয় নিয়ে কিছু নেই। ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ, যে-ই পাঠান, একই রকম মানায়। লেখা বদলানো যায় না, শুধু নাম আর ছবি বদলায়।