ফ্রি। সাইন-আপ নেই। কিছুই সেভ হয় না।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা কার্ড: সম্পর্ক বাছুন, নাম লিখুন, লিংক পাঠান
কার জন্য কার্ড, সেটা বাছুন, একটা ছবি পছন্দ করুন, তারপর তাঁর নাম লিখুন। আপনি পাবেন একটা জন্মদিনের কার্ডের লিংক, যার ভেতরে বাংলায় পুরো একটা শুভেচ্ছা বার্তা আগে থেকেই লেখা, আর ওপরে তাঁর নাম। লিংকটা WhatsApp, Messenger, imo বা যেকোনো চ্যাটে পাঠিয়ে দিন। কার্ড ফ্রি, কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না, আর বানাতে এক মিনিটও লাগে না।
কার্ডটা কার জন্য?



কীভাবে কাজ করে
কার জন্য, বেছে নিন
মা, বাবা, বউ, বন্ধু, স্যার বা আরও উনিশটা সম্পর্কের যেকোনো একটা। প্রত্যেকটার জন্য আলাদা চিঠি, সেই সম্পর্কের কথা ভেবে লেখা।
ছবি বাছুন, নাম লিখুন
সেই সম্পর্কের জন্য বানানো ছবিগুলোর একটা বেছে নিন, তারপর তাঁর নাম লিখুন। আপনাকে শুধু এটুকুই টাইপ করতে হবে।
লিংক পাঠান
লিংকটা WhatsApp, Messenger বা SMS-এ পাঠান। খুললে প্রথমে একটা খাম, তারপর কার্ড, তারপর ওপরে তাঁর নাম লেখা চিঠি।
কার জন্য, বেছে নিন
ভালোবাসার মানুষ
গার্লফ্রেন্ডযাকে ভালো খবরটা সবার আগে জানাতে ইচ্ছে করে, তার জন্য।
বয়ফ্রেন্ডএতটাই সাদামাটা যে সে পুরোটা পড়বেই।
বউযার সঙ্গে সংসার, সোফা আর সকালের চা ভাগ করেন।
স্বামীযে বলবে এসব ঝামেলার দরকার নেই, তার জন্য।
ক্রাশহালকা, একটু সাহসী, অস্বস্তি হওয়ার মতো কিছু নেই।
দূরে থাকা প্রিয় মানুষপাশে থাকা যাচ্ছে না, আর একটা টেক্সট খুব ছোট লাগছে।
পরিবার
মাযিনি এখনো জিজ্ঞেস করেন, খেয়েছিস তো?
বাবাছোট, যাতে বাবা দুবার পড়েন।
বোনআপু হোক বা দিদি, আপনার সব রূপ দেখেও যে ফোন ধরে।
ভাইএকবার ভালো কথাটা বলে, তারপর আবার খুনসুটি।
ছেলেফোনে আরেকটু থাকলে ছেলেকে যা বলতেন।
মেয়েযে কথাগুলো মেয়েকে বলতে চান, অথচ বলা হয় না।
নানু / দাদিযিনি সবার জন্মদিন মনে রাখেন, শুধু নিজেরটা ছাড়া।
দাদু / নানাযাঁর কাছে প্রত্যেক ঘটনার একটা গল্প আছে।
নাতনিএমন কারও তরফে, যিনি সে যা ভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি খেয়াল করেন।
নাতিনাতিকে নিয়ে গর্ব, এত ছোট কথায় যে সে পুরোটা পড়বে।
ভাগ্নি / ভাতিজিসেই মামা, খালা বা চাচার তরফে, যার ভাগে শুধু আদর, শাসন নয়।
ভাগ্নে / ভাতিজাতার পাশে আরও একজন, কোনো উপদেশ ছাড়াই।
প্রথম জন্মদিনএক বছরের বাচ্চাকে লেখা, পড়বেন আসলে মা-বাবা।
জন্মদিনের কার্ডে কী লিখবেন
জন্মদিনের কার্ড লেখার কোনো বাঁধা নিয়ম নেই, তবে যে কার্ডগুলো লোকে বছরের পর বছর রেখে দেয়, সেগুলোয় সাধারণত তিনটে জিনিস থাকে: নাম ধরে সম্বোধন, এমন একটা কথা যা শুধু ওই মানুষটার বেলায় খাটে, আর সামনের বছরের জন্য একটা সহজ শুভকামনা। লম্বা কবিতা বা বড় বড় বিশেষণের দরকার পড়ে না।
এখানে চিঠির মূল অংশটা আমরা লিখে রেখেছি, প্রত্যেক সম্পর্কের জন্য আলাদা করে। মায়ের চিঠিতে আছে না-বলা ধন্যবাদ, ভাইয়ের চিঠিতে খুনসুটি, স্যারের চিঠিতে সম্মান রেখে কৃতজ্ঞতা। আপনার কাজ শুধু নিজের একটা লাইন যোগ করা, লিংকের সঙ্গে পাঠানো মেসেজে। একটা নির্দিষ্ট স্মৃতি বা একটা ঘরোয়া রসিকতাই যথেষ্ট।
Messenger, WhatsApp বা imo-তে কীভাবে পাঠাবেন
নাম লেখার পর পেজেই কার্ডের লিংক আর পাঠানোর কয়েকটা উপায় চলে আসে। WhatsApp বোতাম চাপলে WhatsApp খুলে যায়, মেসেজে লিংকটা বসানো থাকে। ফোনে শেয়ার বোতাম চাপলে ফোনের নিজের শেয়ার মেনু খোলে, সেখান থেকে Messenger, imo বা SMS বেছে নিন। লিংক কপি করে রাখলে Instagram, Telegram বা ইমেইলেও পেস্ট করা যায়।
এটা একটা সাধারণ লিংক, তাই অন্য যেকোনো মেসেজের মতোই যায়, আর যিনি পাবেন তাঁর কোনো অ্যাপ নামাতে হয় না। বেশিরভাগ চ্যাট অ্যাপ লিংকের একটা ছোট প্রিভিউ দেখায়, ফলে খোলার আগেই বোঝা যায় এটা জন্মদিনের কার্ড।
একটা লিংকে একটাই নাম থাকে। ফ্যামিলি গ্রুপে কারও জন্মদিন হলে তাঁর নামে কার্ড বানিয়ে গ্রুপে দিন, যমজ ভাইবোন হলে দুটো আলাদা লিংক বানান। বাড়ির বড়রা অচেনা লিংক খুলতে ভয় পেলে আগে একটা ছোট মেসেজ দিন যে আপনার পাঠানো একটা কার্ড আসছে।
কার্ডের লেখা কেন বদলানো যায় না
প্রত্যেক সম্পর্কের জন্য একটাই চিঠি, আমাদের লেখা। মায়ের চিঠি মাকে লেখা, সহকর্মীর চিঠি শুনতে লাগে সহকর্মীর মতো, মানে আন্তরিক কিন্তু বাড়াবাড়ি নয়। আপনি ছবি বাছেন আর নাম দেন, কথাগুলো একই থাকে।
এটা ইচ্ছে করেই করা। নিজের মতো মেসেজ লেখার সুযোগ দিলে সেই মেসেজ কোথাও রাখতে হয়, মানে ডেটাবেস, অ্যাকাউন্ট, আর একদিন না একদিন টাকা চাওয়ার কারণ। ঠিক করা চিঠি পেজের ভেতরেই থাকে, লিংককে শুধু একটা নাম বয়ে নিতে হয়। এই কারণেই সাইটটা ফ্রি, আর আপনার লেখা আমাদের সার্ভারে যায় না।
লিংক খুললে কী দেখা যায়
লিংক খুললে প্রথমে একটা বন্ধ খাম। ট্যাপ করলে খাম খোলে, আর আপনার বাছা ছবির কার্ডটা বেরিয়ে আসে, ফটোরিয়েল, থ্রিডি বা ছবির বইয়ের মতো আঁকা, যেটা আপনি বেছেছিলেন। আরেকবার ট্যাপ করলে কার্ড খুলে চিঠি, শুরুতে “প্রিয় রিয়া,” বা আপনি যে নাম লিখেছেন।
কখন পাঠাবেন
রাত ১২টার উইশ অনেকের কাছেই আসল উইশ, বিশেষ করে প্রিয় মানুষ আর বন্ধুদের বেলায়। মা-বাবা বা নানু-দাদুকে সকালে পাঠানো ভালো, যখন তাঁরা এমনিতেই ফোন দেখছেন। বস বা সহকর্মীকে অফিসের সময়েই পাঠান, রাত দুপুরে নয়।
বিকেলে মনে পড়লেও পাঠিয়ে দিন। দিনের মধ্যে পৌঁছানো কার্ড পরের দিনের ক্ষমা-চাওয়া কার্ডের চেয়ে ভালো। সাইট নিজে থেকে কিছু শিডিউল করে না, তাই নির্দিষ্ট সময়ে পাঠাতে চাইলে ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন।
গোপনীয়তা: সেভ করার মতো কিছুই নেই
কার্ডের কোনো ডেটাবেস নেই। আপনি যে নাম লেখেন, সেটা লিংকের ভেতরেই থাকে। /bn/bou/b/riya/ মানে বউয়ের পেজ, ছবি b, আর নাম riya। লিংক খুললে এই তিনটে টুকরো থেকে কার্ডটা আবার তৈরি হয়। কেউ সেভ করে না, কারণ সেভ করার কিছু নেই।
তাই লিংক যার কাছে থাকবে, সে-ই কার্ড খুলতে পারবে। নামটা ঠিকানায় পড়া যায়, তাই পুরো নাম দিতে না চাইলে ডাকনাম দিন। আমরা কোনো কার্ড মুছে দিতে পারি না, কারণ সেটা কখনো আমাদের কাছে ছিলই না। মুছতে চাইলে পাঠানো মেসেজটা মুছে দিন।
লোকে যা জানতে চান
জন্মদিনের কার্ডে কী লিখতে হয়?
নাম ধরে একটা সম্বোধন, তাঁর সম্পর্কে একটা সত্যি কথা, আর সামনের বছরের জন্য শুভকামনা। এখানকার প্রত্যেক কার্ডে এই অংশটা আগে থেকেই লেখা আছে। আপনি লিংকের সঙ্গে নিজের ভাষায় এক লাইন জুড়ে দিন, যেমন একটা পুরোনো স্মৃতি বা আজকের কোনো প্ল্যান।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা কিভাবে জানাবো, যাতে গতানুগতিক না লাগে?
সময়মতো পাঠান, নাম ধরে লিখুন, আর এমন একটা কথা বলুন যা অন্য কাউকে বলা যেত না। ফেসবুকে সবার সামনে একটা পোস্ট আর ইনবক্সে আলাদা করে একটা কার্ড, দুটো দুই রকম লাগে। কার্ডটা ব্যক্তিগত দিকটা সামলায়।
WhatsApp বা Messenger-এ birthday wish link কীভাবে পাঠাব?
কার্ড বানানোর পর WhatsApp বোতাম চাপুন, অথবা ফোনে শেয়ার চেপে Messenger বা imo বেছে নিন। ল্যাপটপে লিংক কপি করে যেকোনো চ্যাটে পেস্ট করুন। প্রত্যেকের জন্য আলাদা লিংক বানাতে হবে, কারণ একটা লিংকে একটাই নাম থাকে।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেলে কী উত্তর দেব?
ছোট আর আন্তরিক হলেই চলে: “মনে রাখার জন্য অনেক ধন্যবাদ, তোমার মেসেজটা দিনটা ভালো করে দিল।” কেউ কার্ড বানিয়ে পাঠালে সেটার কথা আলাদা করে বলুন, কোন ছবিটা ভালো লাগল বা চিঠির কোন লাইনটা মনে ধরল। সবাইকে একই কপি-পেস্ট উত্তর না দেওয়াই ভালো।
শুভেচ্ছার সঙ্গে দোয়া বা আশীর্বাদ লেখা যায়?
কার্ডের চিঠিতে কোনো ধর্মীয় লাইন নেই, যাতে যেকোনো পরিবারে পাঠানো যায়। দোয়া বা আশীর্বাদ জানাতে চাইলে লিংকের সঙ্গের মেসেজে নিজের মতো করে লিখে দিন। আপনার নিজের কথায় সেটা বেশি মানায়ও।
ছবির লেখা ইংরেজিতে কেন?
ছবিগুলোয় Happy Birthday, Mom বা Happy Birthday, Bro জাতীয় ইংরেজি লেখা আঁকা আছে, সেটা বদলানো যায় না। ভেতরের পুরো চিঠি বাংলায়। ইংরেজি আর বাংলা মিলিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা এমনিতেই খুব চলে, তাই বেশিরভাগ লোকের কাছে এটা অস্বাভাবিক লাগে না।
এটা কি সত্যিই ফ্রি? সাইন-আপ লাগে?
হ্যাঁ, পুরোটাই ফ্রি, আর সাইন-আপ লাগে না, আপনারও না, যিনি পাবেন তাঁরও না। কোনো পেইড ভার্সন বা ট্রায়াল নেই, আমরা ইমেইল বা ফোন নম্বরও চাই না। কিছু সেভ করি না বলে সাইট চালাতে খরচ খুব কম।
দেরিতে বা অগ্রিম জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠানো যায়?
লিংক কখনো মেয়াদোত্তীর্ণ হয় না, তাই যেকোনো দিন পাঠানো যায়। তবে চিঠিগুলো জন্মদিনের দিনের জন্যই লেখা। একদিন দেরি হলে নিজের মেসেজে সেটা স্বীকার করে নিন, আর অগ্রিম পাঠানোর চেয়ে রাত ১২টায় পাঠানোই বেশি জমে।




