birthdaycardfree

বয়ফ্রেন্ডকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা: প্রেমিকের জন্য একটা চিঠি, একটা কার্ড

একটা ছবি বাছুন, তার নাম লিখুন, তারপর লিংকটা পাঠিয়ে দিন। চিঠিটা এতটাই সাদামাটা যে সে পুরোটা পড়বে, আর সম্ভবত পরে আরেকবার। ফ্রি, সাইন-আপ লাগে না।

১ একটা ছবি বাছুন

ইটের ঘরে চকলেট কেক১ / ১০

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনের কার্ড: ইটের দেয়ালের ঘরে চকলেট কেকের পাশে দুজনের হাত, লেখা Happy Birthday, Handsome
ইটের ঘরে চকলেট কেক

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনের শুভেচ্ছা চিঠি

এই পেজের প্রত্যেক কার্ডে একই লেখা যায়। শুধু নাম বদলায়, তাই সাইন-আপ করতে হয় না, আর আমাদেরও কিছু সেভ করে রাখতে হয় না।

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনের কার্ড: ইটের দেয়ালের ঘরে চকলেট কেকের পাশে দুজনের হাত, লেখা Happy Birthday, Handsome

প্রিয় তাঁর নাম,

তোমার জন্য একটা কার্ড বানালাম। জানি তুমি এমন ভাব করবে যেন এটা কিছুই না, তারপর রাতে কেউ না দেখলে আবার খুলে পড়বে। এতদিনে তোমাকে একটু চিনেছি।

তাই সোজাসুজি বলি। তুমি সাধারণ দিনগুলো সহজ করে দাও। কথার ফাঁকে একবার যা বলে আমি নিজেই ভুলে যাই, তুমি সেটা মনে রাখো। আমার চার্জার কোথায়, সেটাও তুমি আমার আগে জানো। কিছু গোলমাল হলে প্রথমে তোমাকেই বলতে ইচ্ছে করে, আর বলা শেষ হতে হতেই ব্যাপারটা ছোট মনে হয়।

এই বছরটা তোমার জন্য একটু হালকা যাক। নিজেকে যতটা বিশ্রাম দাও, তার চেয়ে একটু বেশি দিয়ো। আর যে স্বপ্নটার কথা তুমি খুব একটা বলো না, সেটা আরেকটু কাছে আসুক।

আমার কপাল ভালো, আর সেটা আমি জানি। আজ কেকটা খেয়ো। দুই টুকরো খেয়ো।

শুভ জন্মদিন।

নাম না ডাকনাম: কার্ডে কী লিখবেন

চিঠি শুরু হয় “প্রিয়” দিয়ে, তারপর আপনার লেখা শব্দ। তার আসল নাম লিখতে পারেন, বা যে নামে শুধু আপনি ডাকেন। মনে রাখবেন, শব্দটা লিংকেও দেখা যাবে, আর লিংক প্রিভিউতে তার ফোনের স্ক্রিনেও। বন্ধুদের সামনে ফোন খুললে খুব আদুরে ডাকনাম তাকে একটু বিপদে ফেলতে পারে, যদিও সেটা হয়তো আপনার উদ্দেশ্যই।

নামের বানান সে যেভাবে লেখে সেভাবেই লিখুন, বাংলায় বা ইংরেজিতে। চিঠির ভেতরে আর কোথাও নাম নেই, তাই প্রথম লাইনটা ঠিক হলেই পুরো কার্ডটা তার হয়ে যায়।

সে কম বলে, কিন্তু বারবার পড়ে

অনেক ছেলে আবেগের মেসেজ পেলে কী উত্তর দেবে বুঝে পায় না। তাই একটা হার্ট ইমোজি বা “থ্যাংকস” পাঠিয়ে চুপ করে থাকে, আর রাতে কার্ডটা আবার খোলে। চিঠিটা সেটা জানে বলেই শুরুতেই হালকা করে মজা করে নেয়, তারপর সোজা কয়েকটা কথা বলে: সে দিনগুলো সহজ করে দেয়, ছোট জিনিস মনে রাখে, পাশে থাকে।

এতে কোনো কবিতা, চাঁদ-তারার উপমা বা ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নেই। তাই কয়েক মাসের সম্পর্ক হোক বা কয়েক বছরের, চিঠিটা অস্বস্তি তৈরি করে না। চিঠিতে কারও লিঙ্গ বা বয়সের কথা নেই, যে-ই পাঠান, স্বাভাবিক শোনায়।

চিঠি কেন, ক্যাপশন কেন নয়

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনে ফেসবুকে একটা ছবি আর দুই লাইনের ক্যাপশন দেওয়া এখন প্রায় নিয়ম। তাতে সবাই জানে আপনি মনে রেখেছেন। কিন্তু ক্যাপশন লেখা হয় সবার জন্য, তাই সেখানে আসল কথাগুলো বাদ যায়।

একটা চিঠি লেখা হয় শুধু একজনের জন্য। bengali birthday letter for boyfriend লিখে যাঁরা খোঁজেন, তাঁরা আসলে এটাই চান: পুরো একটা লেখা, যেটা বাংলায়, যেটা তার নামে শুরু হয়, আর যেটা সে একা বসে পড়তে পারে। কার্ডের চিঠি সেই কাজটা করে, আপনি শুধু সঙ্গে নিজের এক লাইন যোগ করুন।

কখন পাঠাবেন

রাত ১২টায় পাঠানোই সবচেয়ে চলতি, আর অনেক ছেলে এটা মুখে স্বীকার না করলেও মনে রাখে কে প্রথম উইশ করেছিল। সে যদি রাত জেগে গেম খেলে বা খেলা দেখে, ১২টায় সে জেগেই থাকবে।

সে যদি সকালে তাড়াতাড়ি অফিস বা ক্লাসে যায় আর রাতে আগে ঘুমায়, তাহলে ঘুম ভাঙার সময়টা বেছে নিন। আগে থেকে কার্ড বানিয়ে লিংক কপি করে রাখুন, যাতে ঠিক সময়ে শুধু পাঠালেই হয়।

আপনারা একই শহরে থাকলে আর সেদিন দেখা হওয়ার কথা থাকলেও লিংকটা আগে পাঠিয়ে দিন। দেখা হলে কেক, উপহার আর হইচই থাকবে, কিন্তু চিঠিটা পড়ার জন্য একটা শান্ত মুহূর্ত দরকার, যেটা ভিড়ের মধ্যে পাওয়া যায় না।

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনে কী গিফট দেওয়া যায়

উপহারের চেয়েও অনেক ছেলের কাছে বেশি মনে থাকে এমন একটা দিন, যেখানে তাকে কিছু পরিকল্পনা করতে হয়নি। কোথায় যাওয়া হবে, কী খাওয়া হবে, সব আপনি ঠিক করে রাখুন।

ছেলেরা প্রায়ই বলে কিছু লাগবে না, কিন্তু মনে রেখে দেওয়া জিনিস পেলে খুশি হয়। কয়েকটা ভাবনা:

  • তার প্রিয় দলের জার্সি বা খেলার কোনো জিনিস।
  • একটা ভালো ঘড়ি, ওয়ালেট বা পারফিউম।
  • সে যে খাবারটা খুব ভালোবাসে, নিজের হাতে বানানো বা পছন্দের দোকান থেকে।
  • আপনাদের ছবি দিয়ে একটা ছোট অ্যালবাম বা ফ্রেম।

দশটা ছবি, তার শখ অনুযায়ী

বয়ফ্রেন্ডের কার্ডে দশটা ছবি আছে। গেম ভালোবাসলে ভিডিও গেমের রাতের ছবি, খেলা ভালোবাসলে স্টেডিয়ামের বড় পর্দা, গান ভালোবাসলে রেকর্ডের দোকান, ঘুরতে ভালোবাসলে পাহাড়ের চূড়া বা পালতোলা নৌকা।

গেম খেলতে ভালোবাসলে গেমিংয়ের ছবি, ঘুরতে ভালোবাসলে পালতোলা নৌকার ছবি বেছে নিন। তার শখের সঙ্গে মেলে এমন ছবি বাছলে সে বুঝবে আপনি ভেবে বেছেছেন।

লোকে যা জানতে চান

বয়ফ্রেন্ডকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা কীভাবে জানাবো?

রাত ১২টায় বা সকালে একটা কার্ড, সঙ্গে আপনাদের কোনো ঘরোয়া রসিকতা নিয়ে এক লাইন, তারপর দিনে দেখা বা ফোন। ছেলেরা বড় ঘোষণার চেয়ে মনে রাখা ছোট জিনিসে বেশি খুশি হয়।

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনে কী লিখব যাতে বেশি আবেগি না লাগে?

একটা নির্দিষ্ট জিনিস বলুন যা সে করে আর আপনার ভালো লাগে, তারপর থামুন। হালকা একটা মজা দিয়ে শুরু করলে বাকি কথাগুলো সে সহজে নিতে পারে। কার্ডের চিঠি ঠিক এই ধাঁচেই লেখা।

বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিনে কী গিফট দেওয়া যায়?

তার রোজকার জীবন থেকে খুঁজুন: যে হেডফোনটা নষ্ট হয়ে গেছে, যে জার্সিটা কিনবে বলছিল, যে খাবারটা অনেকদিন খায়নি। দামের চেয়ে বোঝা যাওয়াটা জরুরি যে আপনি তার কথা শুনেছেন।

বয়ফ্রেন্ড অন্য শহরে বা বিদেশে থাকে। কোন কার্ড পাঠাব?

এই কার্ডও চলবে, তবে দূরত্ব নিয়েই আলাদা একটা চিঠি আছে দূরে থাকা প্রিয় মানুষের কার্ডে। সেখানে জন্মদিনে পাশে না থাকার কথা আর পরে আবার উদযাপনের প্রতিশ্রুতি আছে। যেটা আপনাদের অবস্থার সঙ্গে বেশি মেলে, সেটা বাছুন।

সে উত্তরে শুধু থ্যাংকস লিখলে কি বুঝব কার্ডটা ভালো লাগেনি?

না, প্রায়ই উল্টো। অনেকে আবেগের কথায় কী লিখবে বুঝতে পারে না, তাই ছোট উত্তর দেয়। দেখা হলে বা ফোনে সে হয়তো কার্ডের কোনো লাইন নিয়ে কথা বলবে, সেটাই আসল উত্তর।

রাত ১২টায় পাঠাব, না সকালে?

সে রাত জাগলে ১২টা, তাড়াতাড়ি ঘুমালে সকালে ঘুম ভাঙার সময়। দুটোর কোনোটাই ভুল নয়। জরুরি হলো দিনটা পার হওয়ার আগে পাঠানো, আর সঙ্গে নিজের এক লাইন রাখা।

কার্ডের লেখা কি নিজের মতো করা যায়?

না। বয়ফ্রেন্ডের প্রত্যেক কার্ডে একই চিঠি, শুধু নাম আর ছবি বদলায়। কিছু সেভ করতে হয় না বলে সাইটটা ফ্রি, অ্যাকাউন্টও লাগে না। নিজের কথা লিংকের সঙ্গের মেসেজে লিখুন।

অন্যদের জন্য কার্ড