birthdaycardfree

বোনের জন্মদিনের শুভেচ্ছা: আপু, দিদি বা ছোট বোনের জন্য কার্ড

একটা ছবি বাছুন, আপু, দিদি বা বোনের নাম লিখুন, তারপর লিংকটা পাঠিয়ে দিন। ভেতরে একটা চিঠি, যেখানে খোঁচা আছে, আর তার নিচে আসল কথাটাও। ফ্রি, সাইন-আপ ছাড়াই।

১ একটা ছবি বাছুন

ল্যাভেন্ডার ক্ষেতে১ / ৩

বোনের জন্মদিনের কার্ড: সূর্যাস্তে ল্যাভেন্ডার ক্ষেতে ফুলের মুকুট পরা দুই বোন, সামনে মোমবাতি জ্বলা কেক
ল্যাভেন্ডার ক্ষেতে

বোনের জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা

এই পেজের প্রত্যেক কার্ডে একই লেখা যায়। শুধু নাম বদলায়, তাই সাইন-আপ করতে হয় না, আর আমাদেরও কিছু সেভ করে রাখতে হয় না।

বোনের জন্মদিনের কার্ড: সূর্যাস্তে ল্যাভেন্ডার ক্ষেতে ফুলের মুকুট পরা দুই বোন, সামনে মোমবাতি জ্বলা কেক

প্রিয় তাঁর নাম,

পৃথিবীতে একমাত্র তুমিই আমাকে বলতে পারো যে আমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে, আর এমনভাবে বলো যেন বিরাট উপকার করছ।

আমার ব্যাপারে তুমি বড্ড বেশি জানো। ভুল চুল কাটার দিনগুলো, মাথায় আসা সব বাজে বুদ্ধি, আর সেই সময়টা যেটা আমি সবাইকে ভুলিয়ে দিতে চাই। এখনো পর্যন্ত মায়ের কাছে খুব বেশি ফাঁস করোনি, সেজন্য কৃতজ্ঞ। তবে নজর রাখছি।

এবার সেই কথাটা, যেটা মুখে কোনোদিন বলব না। তুমি সেই অল্প কয়েকজনের একজন, যাকে আমার কিছু বুঝিয়ে বলতে হয় না। অর্ধেক বাক্য বলতেই তুমি ঠিক জায়গায় এসে চোখ ঘোরাও।

এই বছরটা তোমার ভালো কাটুক, আর আমাকে খোঁচানোর জন্য নতুন নতুন মালমশলা দিক।

শুভ জন্মদিন। এটা নিয়ে আবার বাড়াবাড়ি কোরো না।

আপু, দিদি না নাম: কার্ডে কী লিখবেন

চিঠি শুরু হয় “প্রিয়” দিয়ে, তারপর আপনার লেখা শব্দ। বাংলাদেশে বড় বোনকে সাধারণত আপু বা আপা ডাকা হয়, পশ্চিমবঙ্গে দিদি বা দিদিভাই, আর ছোট বোনকে বেশিরভাগ সময় নাম বা ডাকনামে। যে নামে ফোন করলে সে সাড়া দেয়, সেটাই লিখুন।

চিঠিতে আর কোথাও আপু বা দিদি লেখা নেই, তাই আপনি যা-ই টাইপ করুন, পুরো লেখার সঙ্গে মিলে যায়। ইংরেজি অক্ষরে Apu বা Didi লিখলেও কোনো সমস্যা নেই।

এক বাড়িতে দুই বোন হলে, মানে মেজো আপু বা ছোড়দি, যে নামে তাকে আলাদা করে চেনা যায় সেটাই লিখুন। লিংকে নামটা দেখা যায়, তাই এমন ডাকনাম দিন যা সে বন্ধুদের দেখাতে লজ্জা পাবে না, অন্তত জন্মদিনে।

বড় বোন হোক বা ছোট বোন

চিঠিটা বয়সের হিসাব করে না। বড় বোন যিনি ছোটবেলায় আপনার হোমওয়ার্ক দেখে দিতেন, বা ছোট বোন যে আপনার জামা না বলে পরে বেরিয়ে যায়, দুজনের বেলাতেই খাটে। কথাগুলো সেই জায়গা থেকে লেখা যেখানে দুজন একে অন্যের সবচেয়ে বিব্রতকর গল্পগুলো জানে, আর তবু একে অন্যের পক্ষে থাকে।

বোন বিবাহিত হলে, বিদেশে থাকলে বা কয়েক বছর ধরে কম কথা হলেও চিঠিটা মানায়। এতে নির্দিষ্ট কোনো জায়গা, বয়স বা ঘটনার কথা নেই, শুধু পুরোনো ভাইবোনের খুনসুটির সুর।

সম্পর্কে একটু দূরত্ব এসে গেলে এই কার্ডটা ভালো একটা অজুহাত হতে পারে। বড় কোনো কথা না বলে, পুরোনো সুরে একটা খোঁচা আর একটা সত্যি লাইন, অনেক সময় এটুকুতেই আবার কথা শুরু হয়।

খুনসুটি কতটা চলে

বোনদের কার্ডে একটু খোঁচা না থাকলে অনেক সময় সন্দেহ হয় কেউ অসুস্থ কি না। চিঠির শুরুটা তাই হালকা, তারপর একটা লাইনে আসল কথা। লিংকের সঙ্গে নিজের মেসেজে এই সুরটাই ধরে রাখুন:

  • একটা ঘরোয়া রসিকতা, যেটা শুধু আপনারা দুজন বুঝবেন।
  • ছোটবেলার কোনো ঝগড়ার কথা, যেটা এখন হাসির গল্প।
  • তার সাম্প্রতিক কোনো সাফল্য, এক লাইনে, বেশি ফুলিয়ে না।
  • যা এড়াবেন: ওজন, বিয়ে কবে বা চাকরি নিয়ে খোঁচা। জন্মদিনে এগুলো রসিকতা থাকে না।

কখন পাঠাবেন

বোনদের অনেকে রাত ১২টার উইশের হিসাব রাখে, কে প্রথম পাঠাল আর কে ভুলে গেল। ঘুমিয়ে পড়ার ভয় থাকলে আগে থেকে কার্ড বানিয়ে লিংকটা কপি করে রাখুন, ১২টায় শুধু পাঠিয়ে দিন।

বোন যদি শ্বশুরবাড়িতে থাকে বা ছোট বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সকালের দিকে পাঠানোও ভালো, তখন শান্তিতে খুলে পড়তে পারবে। ফেসবুকে সবার সামনে পোস্ট দিলে ইনবক্সে আলাদা করে কার্ডটাও দিন, দুটো দুই রকম কাজ করে।

বোনের জন্মদিনে কী উপহার দেওয়া যায়

কার্ড হলো শুরু। বাকিটার জন্য কয়েকটা ভাবনা, যেগুলো বোনেরা সত্যিই পছন্দ করে:

  • তার পছন্দের রঙের শাড়ি, কুর্তি বা একজোড়া কানের দুল।
  • ফুচকা বা পছন্দের খাবারের দোকানে দুজনে মিলে এক সন্ধ্যা।
  • ছোটবেলার একটা ছবি, নতুন করে প্রিন্ট করে বাঁধিয়ে।
  • সে অনেকদিন ধরে যে বইটা কিনবে কিনবে করছে, সেটা।
  • এক দিনের জন্য তার কোনো ঝামেলার কাজ নিজের ঘাড়ে নেওয়া।

স্ট্যাটাস না চিঠি

বোনের জন্মদিনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া এখন প্রায় নিয়ম, আর তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু স্ট্যাটাস লেখা হয় সবাই দেখবে বলে, সেখানে ছোটবেলার মজার ছবি আর দুই লাইনের ক্যাপশনই চলে। একটা চিঠি লেখা হয় শুধু একজনের জন্য, তাই সেখানে এমন কথা বলা যায় যা কমেন্ট বক্সে মানায় না।

এই কার্ড সেই ব্যক্তিগত জায়গাটা নেয়। লিংক শুধু বোনের কাছে যায়, আর ভেতরের লেখাটা অন্য কেউ দেখে না, যদি না সে নিজে দেখায়।

লোকে যা জানতে চান

বোনের জন্মদিনে কী লিখব?

একটু খুনসুটি, তারপর একটা সত্যি কথা। বোনেরা মিষ্টি মিষ্টি কথায় সন্দেহ করে, তাই একটা পুরোনো মজার ঘটনা দিয়ে শুরু করে শেষে বলুন সে আপনার কাছে কতটা জরুরি। কার্ডের চিঠি ঠিক এই ধাঁচেই লেখা।

বোনের জন্মদিনে কি উপহার দেওয়া যায়?

তার রোজকার পছন্দ খেয়াল করুন: প্রিয় খাবার, প্রিয় রং, যে জিনিসটা সে কিনতে গিয়েও কেনেনি। একসঙ্গে বাইরে খাওয়া বা একটা পুরোনো ছবি বাঁধিয়ে দেওয়াও অনেক বোনের কাছে দামি উপহারের চেয়ে বেশি মনে থাকে।

বড় আপুকে আমি আপনি বলি। চিঠি তুমি-তে কেন?

কিছু পরিবারে বড় বোনকে আপনি বলা হয়, তবে বেশিরভাগ ভাইবোন একে অন্যকে তুমি বলে, অনেকে তুই। লিখিত চিঠিতে তুই অনেক সময় রূঢ় শোনায়, তাই মাঝামাঝি তুমি রাখা হয়েছে। নিজের মেসেজে যেভাবে ডাকেন সেভাবেই লিখুন।

ছোট বোনের জন্মদিনেও কি এই কার্ড চলবে?

চলবে। চিঠিতে কে বড় কে ছোট, তা বলা নেই। ছোট বোন হলে খোঁচাগুলো সে আরও উপভোগ করবে, আর শেষের লাইনটা পড়ে হয়তো একটু চুপ করে যাবে।

কাজিন বা খালাতো বোনকে পাঠানো যায়?

যায়, যদি তার সঙ্গে নিজের বোনের মতোই সম্পর্ক হয়। চিঠি ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়ার সুরে লেখা। কম চেনা কাজিনের জন্য বন্ধুর কার্ডটা বেশি মানাবে।

বোনকে ফেসবুকে উইশ করব, না আলাদা মেসেজে?

সম্ভব হলে দুটোই। ফেসবুকের পোস্ট সবাইকে জানায় যে আপনি মনে রেখেছেন, আর ইনবক্সের কার্ড বোনকে জানায় আপনি আসলে কী ভাবেন। শুধু একটা বেছে নিতে হলে ব্যক্তিগত মেসেজটাই বেশি মনে থাকে।

কার্ডের লেখা কি নিজের মতো বদলানো যায়?

না। বোনের প্রত্যেক কার্ডে একই চিঠি যায়, শুধু নাম আর ছবি বদলায়। এই কারণেই কিছু সেভ করতে হয় না আর সাইটটা ফ্রি থাকে। নিজের কথা লিংকের সঙ্গের মেসেজে লিখুন।

অন্যদের জন্য কার্ড