দাদুর জন্মদিনের শুভেচ্ছা: দাদু বা নানা ভাইকে নাতি-নাতনির একটা কার্ড
একটা ছবি বাছুন, দাদু, নানা, ঠাকুরদা বা যে নামে ডাকেন সেটা লিখুন, তারপর লিংকটা পাঠিয়ে দিন। ভেতরে একটা চিঠি, যা বলে দাদুকে দেখে দেখে কী কী শিখেছেন। ফ্রি, কোনো অ্যাপ লাগে না।

দাদুর জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা
এই পেজের প্রত্যেক কার্ডে একই লেখা যায়। শুধু নাম বদলায়, তাই সাইন-আপ করতে হয় না, আর আমাদেরও কিছু সেভ করে রাখতে হয় না।

প্রিয় তাঁর নাম,
শুধু একটা টেক্সট না পাঠিয়ে একটু অন্যরকম কিছু পাঠাতে ইচ্ছে হলো, তাই এই কার্ড।
ইদানীং ভাবছিলাম, কত কিছু আপনার কাছ থেকে শিখেছি, অথচ কেউ কখনো বসিয়ে শেখায়নি। কিছু ছিল উপদেশ। বেশিরভাগটাই আপনাকে দেখে: ভোরে হাঁটতে বেরোনো, খবরের কাগজ পড়ে ভাঁজ করে রাখা, আর কেউ দেখুক বা না দেখুক, কাজটা একইভাবে ঠিকঠাক করা।
আপনি হয়তো জানতেন না যে আমি খেয়াল করছি। করতাম। মুখে যতটা স্বীকার করি, তার চেয়ে অনেক বেশি আপনার মতো হয়েছি, আর তাতে আমি খুশি।
আজ একটু আরাম করুন। পা তুলে বসুন, আর কেউ কোনো কাজ ধরিয়ে দিতে এলে বলবেন, আজ আমার জন্মদিন।
আপনার নাতি-নাতনি হতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। শুভ জন্মদিন।
দাদু, নানা না ঠাকুরদা: কী লিখবেন
দাদু শব্দটা বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ দুই জায়গাতেই আদরের ডাক, তাই পেজের নামও দাদু। তবে বাড়িভেদে ডাক আলাদা: বাংলাদেশে বাবার বাবা দাদা বা দাদা ভাই, মায়ের বাবা নানা বা নানা ভাই। পশ্চিমবঙ্গে বাবার বাবা ঠাকুরদা বা দাদু, মায়ের বাবা দাদু বা দাদামশাই।
চিঠি শুরু হয় “প্রিয়” দিয়ে, তারপর আপনার লেখা শব্দ। বাকি চিঠিতে এই শব্দ আর কোথাও নেই, তাই আপনার বাড়িতে যা চলে, সেটাই লিখুন। নামটা বাংলা অক্ষরে লিখলে দাদু ফোনের স্ক্রিনে দেখেই চিনতে পারবেন।
চিঠিতে কী আছে
দাদুর চিঠি কোনো বড় উপদেশের জন্য ধন্যবাদ দেয় না। বলে সেইসব ছোট অভ্যাসের কথা, যা নাতি-নাতনিরা দেখে দেখে শিখে ফেলে: ভোরে হাঁটা, খবরের কাগজ গুছিয়ে রাখা, আর কেউ না দেখলেও কাজটা ঠিকঠাক করা। তারপর একটা স্বীকারোক্তি যে আপনি তাঁর মতো হয়েছেন, আর তাতে খুশি।
শেষে একটা হালকা মজা: কেউ কাজ দিতে এলে বলবেন আজ আমার জন্মদিন। অনেক দাদুর কাছে এই লাইনটা পড়ে হাসি পায়, কারণ তাঁরা কখনো কাজ থেকে ছুটি নিতে জানেন না। চিঠিতে কোনো ধর্মীয় লাইন বা বয়সের উল্লেখ নেই।
লিংক খোলা আর পড়ে শোনানো
অনেক দাদু ফোনে শুধু কল ধরেন, আর অচেনা লিংকে আঙুল দিতে ভয় পান, যেটা ভালো অভ্যাসই। তাই কার্ডটা বাড়ির কাউকে পাঠাতে পারেন, যিনি দাদুর সঙ্গে থাকেন, যাতে খুলে দেখান বা জোরে পড়ে শোনান। ভিডিও কলে নিজের ফোনে কার্ডটা খুলে দেখালেও চলে।
কার্ড ফোনের ব্রাউজারে খোলে, কোনো অ্যাপ লাগে না। প্রথমে একটা খাম, তারপর ছবির কার্ড, তারপর চিঠি। চশমা ছাড়া পড়তে কষ্ট হলে দুই আঙুলে লেখাটা বড় করে নেওয়া যায়।
দাদু যদি একা থাকেন, বা গ্রামের বাড়িতে আর আপনি শহরে, তাহলে কার্ডটা সকালের দিকে পাঠান, যখন বাড়ির কেউ পাশে থাকে। কেউ কাছে থাকলে খুলে দেখাতে পারবেন, আর দাদুও আনন্দটা কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন।
গল্প শোনার দিন
প্রায় সব দাদুর কাছেই প্রতিটা ঘটনার একটা গল্প আছে: যুদ্ধের দিনের কথা, প্রথম চাকরি, নৌকায় করে শ্বশুরবাড়ি যাওয়া। জন্মদিন সেই গল্পগুলো শোনার সবচেয়ে ভালো উপলক্ষ। কার্ড পাঠানোর পর একটা ফোন করুন, আর জিজ্ঞেস করুন তাঁর ছোটবেলার জন্মদিন কেমন ছিল। অনেকেই বলবেন, তখন জন্মদিন বলে কিছু পালনই হতো না।
সম্ভব হলে গল্পটা রেকর্ড করে রাখুন, অনুমতি নিয়ে। কয়েক বছর পরে সেই রেকর্ডিং পরিবারের সবচেয়ে দামি জিনিসগুলোর একটা হয়ে উঠতে পারে।
দাদুর জন্মদিনে কী দেওয়া যায়
দাদুরা সাধারণত বলেন কিছুই লাগবে না, আর কথাটা প্রায়ই সত্যি। তবু কয়েকটা জিনিস তাঁদের রোজকার দিন একটু সহজ করে:
- একটা ভালো হাঁটার লাঠি বা আরামদায়ক স্যান্ডেল।
- পাঞ্জাবি বা ফতুয়া, নরম সুতির।
- বড় অক্ষরের একটা বই বা পছন্দের পত্রিকার বার্ষিক গ্রাহক হওয়া।
- পুরোনো সাদাকালো ছবি স্ক্যান করে বাঁধিয়ে দেওয়া।
- একটা বিকেল তাঁর সঙ্গে দাবা বা লুডু খেলা।
ছবিগুলোর কথা
দাদুর কার্ডে তিনটে ছবি: কুয়াশা ঢাকা লেকের ধারে নাতির সঙ্গে মাছ ধরছেন এক দাদু; রোদেলা টিলায় নাতির সঙ্গে রংধনু ঘুড়ি ওড়ানোর থ্রিডি ছবি; আর আগুনের পাশে দাবার বোর্ড আর ঘুমন্ত কুকুরসহ একটা আরামের ঘর।
ছবির মানুষগুলো দেখতে বিদেশি, তবে দৃশ্যগুলো চেনা: মাছ ধরা, ঘুড়ি ওড়ানো আর দাবা। দাদু মাছ ধরতে ভালোবাসলে প্রথমটা, দাবা খেললে শেষেরটা বেছে নিন।
কোন ছবি বাছলেন, তা নিয়েও ফোনে দুই কথা বলতে পারেন। দাদুরা প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন এটা কোথাকার জায়গা, আর সেখান থেকে তাঁদের নিজের কোনো পুরোনো গল্প শুরু হয়ে যায়।
লোকে যা জানতে চান
দাদুর জন্মদিনে কী লিখব?
দাদুর কাছ থেকে শেখা একটা নির্দিষ্ট জিনিস, আর একটা ছোট ধন্যবাদ। বয়স্করা লম্বা প্রশংসার চেয়ে মনে রাখা ছোট স্মৃতিতে বেশি খুশি হন, যেমন একসঙ্গে বাজারে যাওয়া বা তাঁর শেখানো কোনো খেলা।
দাদু ভাই বা নানা ভাই বলে ডাকি। সেটাই লিখব?
হ্যাঁ, যে নামে ডাকেন সেটাই সবচেয়ে ভালো। চিঠি শুরু হবে প্রিয় দাদু ভাই বা প্রিয় নানা ভাই দিয়ে, আর বাকি লেখায় কোনো ডাকনাম নেই, তাই সবকিছু মিলে যায়।
দাদা লিখলে কি চলবে?
বাংলাদেশের অনেক পরিবারে দাদা মানে বাবার বাবা, তাই সেখানে লিখতেই পারেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে দাদা মানে বড় ভাই, তাই এই পেজে আমরা দাদু ব্যবহার করেছি। আপনি যা ডাকেন তা-ই লিখুন, দাদু নিজে ঠিকই বুঝবেন।
নানা ফোন চালাতে পারেন না। কী করব?
বাড়ির কাউকে লিংকটা পাঠান, যিনি নানাকে খুলে দেখাবেন বা পড়ে শোনাবেন। ভিডিও কলে নিজের ফোনে কার্ড খুলে দেখানোও সহজ উপায়। কার্ডে কোনো অ্যাপ বা অ্যাকাউন্ট লাগে না।
দাদুকে আমি তুমি বলি। চিঠি আপনি-তে কেন?
অনেক নাতি-নাতনি দাদুকে তুমি বলে, অনেক পরিবারে আবার আপনি ছাড়া চলে না। লিখিত চিঠিতে আপনি সব বাড়িতে মানায়। নিজের মেসেজে তুমি দিয়ে লিখলে দাদু আপনার চেনা গলাটা খুঁজে পাবেন।
জন্মদিনে দাদুর কাছে দোয়া বা আশীর্বাদ চাইব কীভাবে?
নিজের মেসেজে এক লাইনে, যেমন আমার জন্য দোয়া করবেন, বা আশীর্বাদ কোরো। বড়দের জন্মদিনে তাঁদের কাছে দোয়া চাওয়া অনেক পরিবারে খুব আদরের রীতি। কার্ডের চিঠিতে ধর্মীয় লাইন রাখা হয়নি, তাই এটা আপনার কথায় আলাদা করে চোখে পড়বে।
ছবিতে নাতি আছে। নাতনি পাঠালে কি মানাবে?
মানাবে। ছবিতে ছেলে নাতি দেখা গেলেও চিঠিতে পাঠানো মানুষ ছেলে না মেয়ে, তা কোথাও বলা নেই, আর বাংলায় ক্রিয়াপদও বদলায় না। দাবার বোর্ডের ছবিটায় কোনো মানুষ নেই, চাইলে সেটা বেছে নিন।